একাডেমি প্রাঙ্গণ বরাদ্দ/ব্যবহারের নীতিমালা

১. বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ বলতে একাডেমি অভ্যন্তরের উন্মুক্ত মাঠ এবং অঙ্গন বলতে মাঠের দক্ষিণ পার্শ্বস্থ অংশকে বুঝাবে।
২. শিল্প-সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত বিষয় যেমন বইমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল উৎসব, লোকজ উৎসব, আবৃত্তি উৎসব, চলচ্চিত্র উৎসব, নাট্যোৎসব, সার্কাস ও যাত্রা উৎসবের প্রয়োজনে একাডেমি প্রাঙ্গণ ভাড়ায় বরাদ্দ প্রদান করা যাবে।
৩. প্রাঙ্গণ বরাদ্দ পাবার জন্য ন্যূনতম ১৫ দিন পূর্বে একাডেমি থেকে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ ও পূরণ করে মহাপরিচালক বরাবর জমা দিতে হবে।
৪. বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোন ব্যাঘাত না ঘটিয়ে কোন সংগঠন সৃজনশীল শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, উন্নয়ন কার্যক্রম শিল্প সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে একাডেমি প্রাঙ্গণ সুটিং এর কাজে ব্যবহার করতে চাইলে শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ উপরোক্ত কার্যক্রম বিবেচনাপূর্বক ঘণ্টা হিসেবে ভাড়ায় বরাদ্দ দিতে পারবে। তবে শিল্পকলা একাডেমি নীতিমালার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন কোন বিষয় সুটিং করা যাবে না।
৫. একাডেমি প্রাঙ্গণ প্রতিদিনের ভাড়া বাবদ ১০,০০০/- টাকা (বিদ্যুৎ বিল বাদে) এবং জামানত ৫,০০০/- টাকা প্রদান করতে হবে এবং দক্ষিণ পার্র্শ্বস্থ রাস্তার ভাড়া প্রতিদিন ৫০০০/- টাকা (বিদ্যুৎ বিল বাবদে) এবং জামানত বাবদ ৩০০০/- টাকা প্রদান করতে হবে।
৬.বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে পানি ও সুয়ারেজ ইত্যাদি ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করবেন। একাডেমি এর কোন ব্যবস্থা করবে না।
৭. মাঠের প্রতিদিনের বিদ্যুৎ খরচ বাবদ ন্যূনতম ২,০০০/- এবং মাঠের দক্ষিণ পার্শ্বস্থ রাস্তায় প্রতিদিনের বিদ্যুৎ খরচ বাবদ ন্যূনতম ১,০০০/- টাকা প্রদান করতে হবে। তবে বিদ্যুৎ খরচ ন্যূনতম অর্থের বেশী হলে মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল পরিশোধ করতে হবে।
৮. প্রাঙ্গণ ব্যবহারের পূর্বে ও পরে বরাদ্দ গ্রহণকারী সংগঠনকে নিজ দায়িত্বে প্রাঙ্গণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে একাডেমি দেয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাবতীয় সরঞ্জামাদি নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত মালামাল অপসারণ করা না হলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে এবং একাডেমি অন্য কোন প্রকার ক্ষতিসাধিত হলে আয়োজক প্রতিষ্ঠান/ কর্তৃপক্ষ উক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবেন।
৯. প্রাঙ্গণে অফিস চলাকালীন সময়ে উচ্চস্বরে মাইক বাজানো/শব্দ প্রক্ষেপণ করা যাবে না।
১০. ভাড়া গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান একাডেমি কর্তৃক আরোপিত যাবতীয় শর্ত মানতে বাধ্য থাকবে।
১১. প্রাঙ্গণ বরাদ্দ বিষয়ে একাডেমি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
১২. শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ের কার্যক্রমে একাডেমি প্রাঙ্গণ বরাদ্দ বিষয়ে অগ্রাধিকার থাকবে।
১৩. প্রাঙ্গণ ভাড়া গ্রহণকারীর এখতিয়ার বহির্ভূত কোন দৈব-দূর্বিপাক, রাজনৈতিক বা সামাজিক অচলাবস্থা ইত্যাদি কারণে নির্ধারিত দিন ও সময়ে অনুষ্ঠান/ মেলা শুরু করা সম্ভব না হলে ভাড়াগ্রহীতা শিল্পী/শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠান পরবর্তী দিন অথবা প্রাঙ্গণ খালি থাকা সাপেক্ষে পরবর্তী অন্য কোন দিন অনুষ্ঠান/ মেলা শুরু করতে পারবে। তবে যদি বরাদ্দকৃত সময়ের পর প্রাঙ্গণ খালি না থাকে তাহলে অনুষ্ঠান/ মেলা আয়োজনের সময়কাল সংক্ষিপ্ত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে যে কয়দিন প্রাঙ্গণ ব্যবহৃত হবে না, সে কয়দিনের ভাড়া ফেরত প্রদান করা হবে।
১৪. এ নীতিমালায় বিধৃত হয়নি, অথচ তা প্রয়োজন, এমন কিছূ পরে উদ্ঘাটিত হলে একাডেমি পরিষদের অনুমোদনক্রমে তা এ নীতিমালায় সংযোজন করা যাবে।
১৫. একাডেমি অথবা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে যে কোন সময় বরাদ্দ বাতিল করার ক্ষমতা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে। সে ক্ষেত্রে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জমাকৃত সকল অর্থ ফেরৎ পাবেন।
১৬. বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ভাড়ায় বরাদ্দ দিতে একাডেমি কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকবেনা। একাডেমি কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় যে কোন কারণ ব্যতীত বরাদ্দ বাতিল করার সর্বময় ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।