বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জাতীয় চিত্রশালা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার প্রদর্শনী গ্যালারি ব্যবহারের নীতিমালা :

১. জাতীয় চিত্রশালার উদ্দেশ্য :

১.১. নিম্নোক্ত উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জাতীয় চিত্রশালা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

১.১.১ দেশের সৃজনশীল শিল্পকর্ম (চিত্রকলা, ভাস্কর্য, ছাপচিত্র, প্রাচ্যকলা, মৃৎশিল্প, লোকশিল্প, আলোকচিত্র ইত্যাদি) স্থায়ীভাবে প্রদর্শন ও সংরক্ষণ।
১.১.২ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন, বিদেশে বাংলাদেশের শিল্পকর্ম প্রেরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ।
১.১.৩ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চারুকলা বিষয়ক সেমিনার, কর্মশালা আয়োজন এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী চারুকলা বিষয়ক প্রশিক্ষণধর্মী কর্মসূচি গ্রহণ।
১.১.৪ দেশের চারুশিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারের লক্ষ্যে বস্তুগত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।

২. নীতিমালা:

২.১ ৩য় ও ৪র্থ তলার প্রদর্শনী গ্যালারি বলতে জাতীয় চিত্রশালা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলায় অবস্থিত প্রদর্শনী গ্যালারি সমূহকে আলাদা আলাদাভাবে বুঝাবে। ৩য় তলায় আছে ২ নম্বর, ৩ নম্বর, ৪ নম্বর ও ৫ নম্বর গ্যালারি এবং ৪র্থ তলায় আছে ৬ নম্বর ও ৭ নম্বর গ্যালারী।
২.২ প্রধানত: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নিজস্ব প্রদর্শনীর জন্য প্রদর্শনী গ্যালারি ব্যবহৃত হবে। তবে যে সময় একাডেমি নিজস্ব কোন প্রদর্শনী থাকবে না, সেই সময়ের জন্য প্রদর্শনী গ্যালারি ভাড়ার মাধ্যমে শুধুমাত্র শিল্পকলা বিষয়ক প্রদর্শনীর জন্য বিভিন্ন শিল্পী/শিল্পীগ্র"প/প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
২.৩ একটি প্রদর্শনীর জন্য একজন শিল্পী/শিল্পীগোষ্ঠী/প্রতিষ্ঠান চাহিদানুযায়ী ভাড়ার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গ্যালারী ব্যবহারের সুযোগ পাবে (যদি খালি থাকে)।
২.৪ গ্যালারি ভাড়া দানের ক্ষেত্রে প্রদর্শনীর গুরুত্ব ও গুণগতমান প্রাধান্য ও অগ্রাধিকার পাবে।
২.৫ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন কোন শিল্পকর্ম/প্রদর্শন সামগ্রী প্রদর্শনের জন্য বিবেচিত হবে না।
২.৬ প্রদর্শনীর জন্য গ্যালারি সমূহ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মহাপরিচালক বিধিমালা অনুসরণ করে শিল্পী/শিল্পীগোষ্ঠী/প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যালারি বরাদ্দ প্রদান করবেন। বরাদ্দ প্রদান বিষয়ে কোন আপত্তির উদ্ভব হলে মহাপরিচালক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবেন। মহাপরিচালকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

২.৭ গ্যালারিতে প্রদর্শনীর জন্য নিম্নোক্ত সুবিধাদি পওয়া যাবে।

২.৭.১ গ্যালারির দেয়ালে চিত্রকর্ম ঝুলানোর ব্যবস্থা
২.৭.২ কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও আলোক ব্যবস্থা
২.৭.৩ দর্শক লাউঞ্জ;
২.৭.৪. প্রদর্শনীর প্রচারপত্র/ক্যাটালগ/ব্রোসিউর বিতরণ/বিক্রির জন্য অভ্যর্থনা কাউন্টার।

২.৮. প্রদর্শনী উপস্থাপনার শর্তাবলী :

২.৮.১. প্রদর্শনী উপস্থাপনার সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্যালারি ব্যবহারকারী শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠানকে করতে হবে। তবে এ বিষয়ে নিম্নবর্ণিত শর্তসমূহ অনুসরণ করতে হবে।
২,৮.২. প্রদর্শিতব্য শিল্পকর্মসমূহ অবশ্যই উপযুক্তভাবে বাঁধাই করতে হবে।
২.৮.৩. গ্যালারির দেয়ালে বা ফ্লোরে কোন প্রকার পেরেক বা আঠা দিয়ে কোন প্রকার প্রচারপত্র অথবা শিল্পকর্মের লেবেল লাগানো যাবে না।
২.৮.৪. প্রদর্শনী স্থলে যে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা আছে তার অতিরিক্ত কোন প্রকার আলোর ব্যবস্থা করা যাবে না।
২.৮.৫. প্রদর্শনী উদ্বোধনীর একদিন আগে অবশ্যই শিল্পকর্মসমূহ ডিসপ্লে করতে হবে।
২.৮.৬.. প্রদর্শনীর জন্য নির্ধারিত স্থানের অতিরিক্ত কোন জায়গা বরাদ্দ করা হবে না।

২.৯. প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য গ্যালারি ভবনের প্লাজা/মিলনায়তন (নির্ধারিত দিন ও সময়ে প্লাজা খালি থাকলে) ব্যবহার করা হলে সে ক্ষেত্রে প্লাজা/মিলনায়তন ব্যবহারের নীতিমালা ও আলাদা ভাড়া প্রযোজ্য হবে।
২.১০. লভ্য সুবিধাদির মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও আলোক ব্যবস্থা একাডেমি নিজস্ব জনবলের তত্ত্বাবধানে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হবে।
২.১১. একাডেমি নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা আলোক ব্যবস্থার কোন ক্রটি দেখা দিলে সে জন্য একাডেমি কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
২.১২. প্রদর্শনী গ্যালারির ভেতরে সকল প্রকার খাবার পরিবেশন/ গ্রহণ করা এবং ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। জাতীয় চিত্রশালার অস্থায়ী প্রদর্শনী গ্যালারি ব্যবহারকারী শিল্পী/শিল্পীগোষ্ঠী/প্রতিষ্ঠান আহারের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ব্যতীত জাতীয় চিত্রশালা ভবনের অন্য কোন স্থান ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে একাডেমি কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমতি গ্রহণ করে শুধুমাত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী দিনে দর্শক লাউঞ্জে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য হালকা নাস্তার ব্যবস্থা রাখা যাবে। তবে এ বিষয়ে সকল প্রকার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব গ্যালারী ব্যবহারকারী গোষ্ঠী/প্রতিষ্ঠানের থাকবে।
২.১৩. প্রদর্শনীর জন্য গ্যালারি ব্যবহারকারী শিল্পী/শিল্পীগোষ্ঠী/প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮.০০টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী গ্যালারি দর্শকদের জন্য খোলা রাখতে পারবে।
২.১৪. প্রদর্শনী চলাকালীন শিল্পকর্মসমূহের নিরাপত্তার জন্য এবং শিল্পকর্মসমূহের তথ্যাবলী দর্শকমন্ডলীকে সরবরাহ/ অবহিত করার জন্য শিল্পী বা প্রতিষ্ঠানের মনোনীত ব্যক্তি/ ব্যক্তিবৃন্দকে অবশ্যই প্রদর্শনী গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে হবে।
২.১৫ প্রদর্শনী চলাকালে শিল্পকর্মসমূহ/ প্রদর্শন সামগ্রী কোন প্রকার ক্ষতিগ্রস্থ হলে একাডেমি কর্তৃপক্ষের কোন দায়-দায়িত্ব থাকবে না।
২.১৬. গ্যালারি ব্যবহারকারী শিল্পী/শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত কোন প্রদর্শনীর সকল/কোন বিশেষ শিল্পকর্ম যদি জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন হয়, তাহলে একাডেমি কর্তৃপক্ষ সেই সকল শিল্পকর্ম প্রদর্শনী গ্যালারিতে প্রদর্শন করার অযোগ্য বলে ঘোষণা করতে পারবে এবং সেক্ষেত্রে গ্যালারি ব্যবহারকারী শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/প্রতিষ্ঠান সে সকল শিল্পকর্ম প্রদর্শনী থেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য থাকবেন।
২.১৭. প্রদর্শনী গ্যালারি বরাদ্দের আবেদন মঞ্জুর করা বা না করা এবং কোন কারণ দর্শানো ছাড়া যে কোন সময়, প্রদত্ত অনুমতি বাতিল করার সম্পূর্ণ অধিকার শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবে।
২.১৮. প্রদর্শনী গ্যালারির ব্লকসমূহ বরাদ্দ প্রদানের বিষয়ে একাডেমি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। এ বিষয়ে কোন শিল্পী/শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠানের কোনরূপ আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।
২.১৯. প্রদর্শনী গ্যালারি ভাড়া গ্রহণের জন্য আবেদনকারী শিল্পী/শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠানকে একক প্রদর্শনী হলে শিল্পীর জীবন-বৃত্তান্ত, গ্র"প প্রদর্শনী হলে প্রদর্শনী সম্পর্কিত সকল বিবরণ ও শিল্পীদের নাম এবং শিল্পকলা সংক্রান্ত অন্য কোন প্রদর্শনী হলে সে প্রদর্শনী সম্পর্কে বিশদ বিবরণ আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

৩. প্রদর্শনী গ্যালারি ভাড়ার হার:

৩.১ ৩য় তলায় অবস্থিত ২ নম্বর, ৩ নম্বর ও ৪ নম্বর এবং ৪র্থ তলায় অবস্থিত ৬ নম্বর ও ৭ নম্বর প্রদর্শনী গ্যালারির প্রতিটি ব্যবহারের জন্য দৈনিক ৮,০০০/- + ভ্যাট টাকা (আলোক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ) ভাড়া প্রদান করতে হবে। এছাড়াও গ্যালারি ব্যবহারকারী শিল্পী/শিল্পীগোষ্ঠী/প্রতিষ্ঠানকে জামানত বাবদ ৫,০০০/- টাকা একাডেমি অনুকূলে জমা দিবে হবে।
৩.২ ৩য় তলায় অবস্থিত ৫ নম্বর প্রদর্শনী গ্যালারি ব্যবহারের জন্য দৈনিক ৬,০০০/- + ভ্যাট টাকা (আলোক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ) ভাড়া প্রদান করতে হবে। এছাড়াও গ্যালারি ব্যবহারকারী শিল্পী/শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠানকে জামানত বাবদ ৪,০০০/- টাকা একাডেমি অনুকূলে জমা দিবে হবে।
৩.৩ প্রদর্শনী শিল্পকর্ম ডিসপ্লের জন্য যে দিন থেকে গ্যালারি ব্যবহার করা হবে, সে দিন থেকে ভাড়া প্রযোজ্য হবে।
৩.৪ একটি প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ১৫দিনের জন্য গ্যালারি বরাদ্দ প্রদান করা হবে (তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সময়সীমা বাড়ানো যাবে)।
৩.৫ প্রদর্শনী শেষে চারুকলা বিভাগের পরিচালকের সুপারিশের ভিত্তিতে জামানত হিসাবে দেয় টাকা সংশ্লিষ্ট শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/প্রতিষ্ঠানকে ফেরত প্রদান করা হবে।
৩.৬ জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এমন বিশেষ ক্ষেত্রে একাডেমি মহাপরিচালক রেয়াতি হারে (মোট ভাড়ার ২৫% ভাড়ায়) বরাদ্দ প্রদান অথবা ভাড়া মওকুফ করে গ্যালারি ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবেন, তবে জামানতের অর্থ প্রদান করতে হবে।

৪. আবেদনের নিয়মাবলী:

৪.১ প্রদর্শনী গ্যালারি ব্যবহারে আগ্রহী শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠানকে গ্যালারি ব্যবহারের অনুমতির জন্য নির্ধারিত আবেদনপত্রে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মহাপরিচালকের বরাবরে আবেদন করতে হবে।
৪.২ একবার জমা দেয়া আবেদনপত্রে একাডেমি অনুমতি ব্যতিরেকে কোনরূপ পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন করা যাবে না।
৪.৩ আবেদনকারী শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠানকে আবেদনপত্রে নিুোক্ত মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে-

৪.৩.১ আবেদনপত্রে বিধৃত সকল বিষয় ও তথ্য সম্পূর্ণ সত্য।
৪.৩.২ আবেদনপত্রে বিধৃত বিষয় ও তথ্য ছাড়া অন্য কোন বিষয় বা তথ্য একাডেমি জানতে চাইলে আবেদনকারী শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠান তা জানাতে বাধ্য থাকবে।
৪.৩.৩ আবেদনকারী শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠান প্রদর্শনী গ্যালারি ব্যবহারের নীতিমালার সকল ধারা মানতে বাধ্য থাকবে।

৪.৪ বিদেশী শিল্পীর অংশগ্রহণে অথবা বিদেশের কোন প্রদর্শনী আয়োজনের ক্ষেত্রে আবেদনকারী শিল্পী/ শিল্পীগ্র"প/ প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র একাডেমি কর্তৃপক্ষের বরাবরে দাখিল করতে হবে।
৪.৫ গ্যালারি বরাদ্দের আবেদনের প্রেক্ষিতে, মহাপরিচালকের সম্মতি গ্রহণ করে শিল্পকলা একাডেমি চারুকলা বিভাগ গ্যালারি ব্যবহারের প্রাথমিক বরাদ্দপত্র প্রদান করবে।
৪.৬ প্রাথমিক বরাদ্দ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে আবেদনকারী শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠানকে অফিস চলাকালীন সময়ে গ্যালারি ভাড়া বাবদ নির্ধারিত অর্থ এবং জামানত বাবদ দেয় অর্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি অনুকূলে পৃথক পৃথক পে-অর্ডার এর মাধ্যমে অথবা নগদ অর্থে একাডেমি হিসাব বিভাগে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হলে, গ্যালারির প্রাথমিক বরাদ্দপ্রাপ্ত শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে গ্যালারি সংরক্ষণের নিশ্চয়তা থাকবে না।
৪.৭ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্যালারি ভাড়া ও জামানতের অর্থ প্রাপ্তির পর, একাডেমি চারুকলা বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠানকে গ্যালারি ব্যবহারের চূড়ান্ত অনুমতিপত্র প্রদান করা হবে।
৪.৮ চূড়ান্ত অনুমতি পত্র না পাওয়া পর্যন্ত আবেদনকারী শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠান গ্যালারি ব্যবহার করতে পারবে না।
৪.৯ ভাড়া গ্রহণকারী শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠান গ্যালারি বরাদ্দের নির্ধারিত তারিখের কমপক্ষে ৭ (সাত) দিন পূর্বে গ্যালারি বরাদ্দের তারিখ পরিবর্তনের আবেদন জানালে, গ্যালারি খালি থাকা বা হওয়া সাপেক্ষে তারিখ পরিবর্তন করা যেতে পারে।
৪.১০ কোন কারণে গ্যালারি ভাড়াগ্রহীতা, গ্যালারি বরাদ্দের নির্ধারিত তারিখের ৭দিন পূর্বে বরাদ্দ বাতিল করার আবেদন জানালে ভাড়ার ১০%, ৭২ ঘন্টা পূর্বে জানালে ৫০%, ২৪ ঘন্টা পূর্বে জানালে ৭৫% এবং গ্যালারি বরাদ্দের নির্ধারিত দিন জানালে সংশ্লিষ্ট প্রদর্শনীর জন্য জমা দেয়া অর্থের সম্পূর্ণই কেটে রাখা হবে।
৪.১১ কজন শিল্পী/ একটি শিল্পীগোষ্ঠী/ একটি প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দকৃত গ্যালারি অন্য শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারবে না।
৪.১২ গ্যালারি ভাড়া গ্রহণকারীর এখতিয়ার বহির্ভূত কোন দৈব-দূর্বিপাক, রাজনৈতিক বা সামাজিক অচলাবস্থা ইত্যাদি কারণে নির্ধারিত দিন ও সময়ে প্রদর্শনী শুরু করা সম্ভব না হলে ভাড়াগ্রহীতা শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠান পরবর্তী দিন অথবা গ্যালারি খালি থাকা সাপেক্ষে পরবর্তী অন্য কোন দিন প্রদর্শনী শুরু করতে পারবে। তবে যদি বরাদ্দকৃত সময়ের পর গ্যালারি খালি না থাকে, তাহলে প্রদর্শনী আয়োজনের সময়কাল সংক্ষিপ্ত করতে হবে। সেক্ষেত্রে যে কয়দিন গ্যালারি ব্যবহৃত হবে না, সে কয়দিনের ভাড়া ফেরত প্রদান করা হবে।
৪.১৩ গ্যালারি ব্যবহারকারী শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠান প্রদর্শনী সমাপ্তির পরের দিন বেলা ১২:০০ টার ভেতর সকল শিল্পকর্ম/ প্রদর্শনী সামগ্রী একাডেমি থেকে ফেরত নিয়ে যেতে বাধ্য থাকবে। ঐ সময়ের মধ্যে শিল্পকর্ম/ প্রদর্শনী সামগ্রী ফেরত না নিয়ে গেলে জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
৪.১৪ গ্যালারি ভাড়াগ্রহণকারী কর্তৃক গ্যালারি বা একাডেমি কোন অংশের বা কিছুর ক্ষতি হলে তার জন্য যুক্তিসঙ্গতভাবে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতি না হলে ভাড়া গ্রহণকারী কর্তৃক উক্ত জামানতের অর্থ ফেরত প্রদানের আবেদনের ৭(সাত) কার্যদিবসের মধ্যে জামানতের অর্থ ফেরত দেয়া হবে।
৪.১৫ যে সকল শিল্পকর্ম/ প্রদর্শন সামগ্রী প্রদর্শনীর জন্য আনা হবে সেগুলির তালিকা পূর্বেই একাডেমি চারুকলা বিভাগে প্রদান করতে হবে। ভাড়া গ্রহণকারী শিল্পী/ শিল্পীগোষ্ঠী/ প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে অন্য কোন জিনিস গ্যালারির অভ্যন্তরে নিতে হলে শিল্পকলা একাডেমি অনুমতি গ্রহণ করতে হবে প্রদর্শনী শেষে শিল্পকর্ম/ প্রদর্শন সামগ্রীসহ ঐসব জিনিষ চিত্রশালার বাইরে নেয়ার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গেট পাশের প্রয়োজন হবে।
৫. এই নীতিমালায় বিধৃত হয়নি, অথচ তা প্রয়োজনীয়, এমন কিছু পরে উদ্ঘাটিত হলে, তা এই নীতিমালায় একাডেমি পরিষদের অনুমোদনক্রমে সংযোজন করা যাবে।
৬. একাডেমি অথবা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে যে কোন সময় বরাদ্দ বাতিল করার ক্ষমতা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে। সে ক্ষেত্রে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জমাকৃত সকল অর্থ ফেরৎ পাবেন।