জেলা গঠনতন্ত্র

১৯৭৪ সনের ১৯শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে গৃহীত Bangladesh Shilpakala Academy Act, 1974 (X X X І of 1974) এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। উক্ত এ্যাক্টের ৪(২) ধারা বলে একাডেমি দেশের প্রতিটি জেলা ও মহকুমা সদরে শিল্পকলা পরিষদ গঠন করে এবং উক্ত এ্যাক্টের ২২(১) ধারা মতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পরিষদের ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬ তারিখের সভায় শিল্পকলা পরিষদ গঠনতন্ত্র অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে Bangladesh Shilpakala Academy Act, 1974 (X X X І of 1974) রহিত করে কতিপয় সংশোধনীসহ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আইন, ১৯৮৯ (১৯৮৯ সনের ২২নং আইন) প্রণীত হইয়াছে। উক্ত আইন বলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পরিষদের ২৭ অক্টোবর ২০১৩ অনুষ্ঠিত ১০৩তম সভায় পূর্বে প্রণীত শিল্পকলা পরিষদ গঠনতন্ত্র সংশোধনপূর্বক নিম্নেবর্ণিত জেলা শিল্পকলা একাডেমি 'গঠনতন্ত্র' অনুমোদিত হইয়াছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পরিষদের ১০৬, ১০৮ ও ১১১তম সভায় উক্ত গঠনতন্ত্র আংশিক সংশোধন করে অনুমোদন করা হইয়াছে। উক্ত গঠনতন্ত্র দ্বারা জেলা শিল্পকলা একাডেমিসমূহ পরিচালিত হইবে।

ধারা ১. আদর্শ ও উদ্দেশ্যাবলি

উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিসমূহ নিম্নবর্ণিত আদর্শ ও উদ্দেশ্যাবলি বাস্তবায়নে নিয়োজিত থাকিবে:

ক) জাতীয় সংস্কৃতির উন্নতি ও বিকাশসাধনে আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক কার্যকলাপে যথা: চারুকলা, সঙ্গীত, নৃত্য ও নাটকসহ সংস্কৃতির সকল মাধ্যমে উৎসাহ দান। 
খ) স্থানীয় সুকুমার শিল্পের প্রতিষ্ঠানসমূহকে সহায়তা প্রদান। 
গ) আঞ্চলিক ভিত্তিতে জনসাধারণের মধ্যে যথাযথ সাংস্কৃতিক মানসিকতা ও সৌন্দর্যবোধের চর্চা, সম্প্রসারণ এবং শিল্পচর্চার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সৃষ্টি। 
ঘ) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সভা, সেমিনার, চারুকলা প্রদর্শনী, নাট্যানুষ্ঠান, আর্ট গ্যালারি, গ্রন্থাগার ইত্যাদির ব্যবস্থা গ্রহণে শিল্পী এবং শিল্পানুরাগীদের সুযোগ ও সহায়তা দান। 
ঙ) বাংলাদেশের আঞ্চলিক ঐতিহ্যবাহী সুকুমার শিল্প, বিশেষতঃ লোক-শিল্প, লোকগাথা, ইত্যাদির সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও প্রকাশনার ব্যবস্থা করা। 
চ) চারু ও কারুকলা, নৃত্য, সঙ্গীত ও নাটকের বিভিন্ন শাখার প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতিভাবানদের উৎসাহ দান।

 

ধারা ২. সদস্যভুক্তি

ক) সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে এমন "সংস্কৃতিমান" ব্যক্তি উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য হইতে পারিবেন। 
খ) "সংস্কৃতিমান" বলিতে সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্র যেমন: সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, চারুকলা, আবৃত্তি, যন্ত্রসঙ্গীত, যাত্রাশিল্প, চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও শিল্পসমালোচনার ক্ষেত্রে অবদান রহিয়াছে এমন ব্যক্তিবর্গকে বুঝাইবে। প্রার্থীর সংস্কৃতির যে ক্ষেত্রে অবদান রহিয়াছে তাহার সপক্ষে প্রমানাদিসহ আবেদন করিতে হইবে। আবেদনপত্র কার্যনির্বাহী/ এডহক কমিটি কর্তৃক যাচাই বাছাইপূর্বক অনুমোদিত হইবে। 
গ) সদস্যভুক্তির ফি ৫০০/- (তিনশত) এবং বার্ষিক চাঁদা ২০০/- (দুইশত) টাকা দিতে হইবে। 
ঘ) জুলাই হইতে জুনের জন্য দেয় বার্ষিক চাঁদা অবশ্যই ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করিতে হইবে। 
ঙ) যে কোন সংস্কৃতিমান ব্যক্তি এককালীন ১০,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা চাঁদা দান করিয়া জীবন সদস্যপদ লাভ করিতে পারিবেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন।

 

ধারা ৩. সদস্যভুক্তির নিয়ম

ক) সদস্যপদ লাভের জন্য প্রার্থীকে সংস্কৃতির যে ক্ষেত্রে অবদান রহিয়াছে তার সপক্ষে প্রমাণাদিসহ কার্যনির্বাহী/ এডহক কমিটির সভাপতির নিকট নির্ধারিত ফরমে আবেদন করিতে হইবে। উক্ত আবেদন পত্রে কার্যনির্বাহী/ এডহক কমিটির দুইজন সদস্যের সুপারিশ থাকিতে হইবে। 
খ) আবেদনপত্র কার্যনির্বাহী/ এডহক কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই পূর্বক সদস্যভুক্তির আবেদনপত্র কার্যনির্বাহী/ এডহক কমিটি দ্বারা মঞ্জুর হইলে নির্ধারিত ফি ও বাৎসরিক চাঁদা দানের পর প্রার্থীর নাম সদস্য তালিকাভুক্ত হইবে।

 

ধারা ৪. সদস্যপদ বিলুপ্তি

ক) 'পদত্যাগ, মৃত্যু, মস্তিষ্কবিকৃতি, আদর্শ ও উদ্দেশ্যাবলির পরিপন্থি কার্যকলাপ এবং উপর্যুপরি দুই বৎসরকাল বাৎসরিক চাঁদা অনাদায়ে সদস্যপদ বিলুপ্ত বলিয়া গণ্য হইবে'।
খ) 'আদর্শ ও উদ্দেশ্যাবলীর পরিপন্থি কার্যকলাপ করিলে কারণ দর্শানো সাপেক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি কমিটির অনুমোদনক্রমে সদস্যপদ বাতিল করা হইবে'।

 

ধারা ৫. পরিচালনা

জেলা শিল্পকলা একাডেমিসমূহ যথাযথ পরিচালনার দায়িত্ব এই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচিত একটি কার্যনির্বাহী কমিটির উপর ন্যস্ত থাকিবে। কার্যনির্বাহী কমিটি নিজ আওতাধীন এলাকায় সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিরূপে বিবেচিত হইবে। অবশ্য এই কমিটি অত্র আদেশের চার নম্বর বিধির অর্ন্তগত ১ নম্বর ধারায় বর্ণিত 'ক' হইতে 'চ' উপধারা অনুসারে গৃহীত কর্মসূচি ও কার্যাবলি সম্পর্কে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে অবহিত রাখিবে।

 

ধারা ৬. কার্যনির্বাহী কমিটি

ক) কার্যনির্বাহী কমিটিতে মোট ১৫জন সদস্য থাকিবেন। যথাঃ- সভাপতি ১জন; সহ-সভাপতি ২জন; সাধারণ সম্পাদক ১জন; যুগ্ম সম্পাদক ২জন; কোষাধ্যক্ষ ১জন; সদস্য ৮জন। 

ক) নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা : বয়স নূন্যতম ৩৫ বৎসর হইতে হইবে।
খ) হালনাগাদ সদস্য ফি পরিশোধিত হইতে হইবে।
গ) একাডেমির সাধারণ সদস্যভুক্তির মেয়াদ ন্যূনতম দুই বৎসর পূর্ণ হইতে হইবে।
খ)
(১) জেলা প্রশাসক পদাধিকারবলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি থাকিবেন।
(২) কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতি শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ৩জন খ্যাতিমান সদস্য মনোনিত করিবেন যাহাদের মধ্যে নূন্যতম একজন মহিলা থাকিবেন।
(৩) কার্যনির্বাহী কমিটির ১০জন সদস্য (সহসভাপতি ২জন; সাধারণ সম্পাদক ১জন; যুগ্ম সম্পাদক ২জন, সদস্য ৫জন) সাধারণ সদস্য কর্তৃক সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন।
(৪) সভাপতি, জেলা কালচারাল অফিসার ও মনোনিত সদস্য ব্যতিত কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তা নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচন উপকমিটির উপর ন্যস্ত থাকিবে। জেলা কালচারাল অফিসার (পদাধিকারবলে) কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করিবেন।
গ)
কার্যনির্বাহী কমিটি ৩ বৎসরের জন্য নির্বাচিত হইবে। কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হইবার তিন মাস পূর্বে পরবর্তী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করিতে হইবে এবং নির্বাচন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করিতেই হইবে। নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি মেয়াদান্তে পরবর্তী কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করিবে।
১। ৩ বৎসরের পর কার্যনির্বাহী কমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হইবে। ৩ বৎসর মেয়াদের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা সম্ভব না হইলে জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অনুমোদনক্রমে ৫ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করিবেন। এডহক কমিটির সভাপতি: জেলা প্রশাসক (পদাধিকার বলে), সদস্য: ৩ জন, শিল্পানুরাগী/ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্য থেকে জেলা প্রশাসক মনোনয়ন দিবেন এবং জেলা কালচারাল অফিসার সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করিবেন।
২। এডহক কমিটি ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করিবেন। উক্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব না হইলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অনুমোদনক্রমে আরও ৩ মাস সময় বৃদ্ধি করা যাইবে।
ঘ) জেলা শিল্পকলা একাডেমির তহবিল ও সম্পদ কার্যনির্বাহী কমিটির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং জেলা কালচারাল অফিসার দাপ্তরিক সকল কার্যক্রম পরিচালনা করিবেন। 
ঙ) কার্যনির্বাহী কমিটি প্রতি ৩ মাসে অন্তত একবার সভায় মিলিত হইবে।
চ) এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম হইবে। 
ছ) কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সদস্য যদি কোনো উপযুক্ত কারণ ব্যতিত উপর্যুপরি কমিটির ৩টি সভায় অনুপস্থিত থাকেন তবে তাঁহার সদস্যপদ বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে। 
জ) নির্বাচিত সদস্যদের পদ কোনো কারণে শূন্য হইলে নির্বাচন উপকমিটির মাধ্যমে সাধারণ সদস্য কর্তৃক সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটির শূন্য সদস্য পদ পূরণ করিতে হইবে।
ঝ) মৃত্যু, পদত্যাগ অথবা অন্য কোনো কারণে কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো নির্বাচিত সদস্যপদ শূন্য হইলে 'জ' উপধারা অনুসারে সেই শূন্য পদ পূরণ করা যাইবে। 
ঞ) সাধারণ সম্পাদক সভাপতির সম্মতিক্রমে ৭ দিনের নোটিশে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করিতে পারিবেন। তবে কোন জরুরি সভা ২৪ ঘণ্টার নোটিশেই আহ্বান করা যাইবে।
ট) সভাপতির অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতি সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহাদের অনুপস্থিতিতে কার্যনির্বাহী কমিটির মনোনিত একজন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন।
ঠ)কার্যনির্বাহী কমিটি বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করিবেন। সেই বাজেট বরাদ্দ অনুসারে সকল প্রকার ব্যয় নির্বাহ করা হইবে। কেবল কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে বাজেটের ব্যয় বরাদ্দের যে কোন পরিবর্তন করা যাইতে পারিবে। জরুরি অবস্থায় সভাপতি স্বয়ং আর্থিক অনুমোদন দিতে পারিবেন। অফিস ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য স্থায়ী অগ্রিম হিসাবে কোষাধ্যক্ষ/ সদস্য-সচিবের নিকট ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা রাখিতে পারিবেন। 
ড) সাধারণ সম্পাদক জেলা শিল্পকলা একাডেমি কার্যনির্বাহী কমিটির সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণ ও কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করিবেন। তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমির বার্ষিক কার্যবিবরণী প্রস্তুত করিবেন এবং এই বিবরণী কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন লাভে সক্ষম হইলে উহা সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হইবার ১০ দিবস পূর্বে সাধারণ সদস্যের জ্ঞাতার্থে অবগত করাইবেন ও সভায় পেশ করিবেন। 
ঢ) যুগ্ম সম্পাদকগণ সাধারণ সম্পাদকের কাজে সহায়তা করিবেন এবং কার্যনির্বাহী কমিটি কর্তৃক মনোনিত একজন যুগ্ম সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করিবেন।

 

ধারা ৭. কার্যনির্বাহী কমিটির ক্ষমতা ও দায়িত্ব

ক) সভাপতি: সভাপতি জেলা শিল্পকলা একাডেমির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং প্রথমত সভার প্রতিটি কার্যবিবরণী অনুমোদন করিবেন। সভাপতি কার্যনির্বাহী কমিটির যে কোনো জরুরি সভা অথবা বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করিবার জন্য সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং যদি সাধারণ সম্পাদক ঠিক সময়ের মধ্যে উক্ত সভা আহ্বান করিতে ব্যর্থ হন তবে সভাপতি নিজেই উল্লেখিত সভা আহ্বান করিতে পারিবেন। বিশেষ কোন পরিস্থিতিতে সভাপতি যদি কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন, সেই ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অনুমোদনক্রমে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল ঘোষণা করিতে পারিবেন। নতুন এডহক কমিটি গঠন এবং নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন। 
খ) সহসভাপতি: সহসভাপতিগণ সকল বিষয়ে সভাপতিকে সহায়তা করিবেন। সভাপতির অনুপস্থিতিতে সিনিয়র সহসভাপতি সভায় সভাপতিত্বসহ সভাপতির সকল দায়িত্ব পালন করিবেন। 
গ) সাধারণ সম্পাদক: সাধারণ সম্পাদক জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যনির্বাহের দায়িত্ব পালন করিবেন এবং সুষ্ঠুভাবে কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য তিনি সভাপতি ও কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট দায়ী থাকিবেন। তিনি সভাপতির অনুমতিক্রমে সকল সভা আহ্বান করিবেন। 
ঘ) যুগ্ম-সম্পাদক: যুগ্ম-সম্পাদকগণ সাধারণ সম্পাদকের সকল কাজে সহায়তা করিবেন। সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক সাধারণ সম্পাদকের সকল দায়িত্ব পালন করিবেন। সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে অপর যুগ্ম-সম্পাদক সাধারণ সম্পাদকের সকল দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন।
ঙ) কোষাধ্যক্ষ: কোষাধ্যক্ষ জেলা শিল্পকলা একাডেমির তহবিল নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব পালন করিবেন এবং সুষ্ঠুভাবে কর্তব্য সম্পাদনের জন্য কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট দায়ী থাকিবেন। জেলা কালচারাল অফিসার কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করিবেন। জেলা কালচারাল অফিসার সকল সভার কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধ করিবেন ও সভাপতির অনুমোদনের জন্য পেশ করিবেন। তিনি কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে যাবতীয় যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করিবেন।
চ) জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যাংক হিসাব পরিচালনা 
নির্বাচিত কমিটির ক্ষেত্রে: কোষাধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদক এবং এডহক কমিটির ক্ষেত্রে: এডহক কমিটির সভাপতি ও সদস্য-সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক একাউন্ট পরিচালিত হইবে।

 

ধারা ৮. তহবিল

ক) জেলা শিল্পকলা একাডেমির তহবিল নিম্নোক্তভাবে সংগৃহীত হইবে

১) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক দেয় অনুদান। 
২) সদস্যদের সদস্য অন্তর্ভূক্তি ফি ও বার্ষিক চাঁদা।
৩) জনসাধারণ, ব্যক্তিবিশেষ অথবা কোন প্রতিষ্ঠানের এককালীন অর্থ ও দ্রব্য সামগ্রী দান। 
৪) অনুষ্ঠানাদি (সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, প্রদর্শনী ইত্যাদি) সূত্রে প্রাপ্ত অর্থ। 
৫) এককালীন বিশেষ সরকারী অনুদান।
৬) প্রাঙ্গণ, কক্ষ ও মিলনায়তন ভাড়া।
৭) অন্যান্য উৎসসমূহ হইতে প্রাপ্ত আয়।
খ) তহবিল নিয়ন্ত্রণ: জেলা শিল্পকলা একাডেমির হিসাবপত্র স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিধি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হইবে। জেলা শিল্পকলা একাডেমির সমুদয় অর্থ একাডেমির নামে কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদিত ব্যাংক অথবা ব্যাংকসমূহে জমা থাকিবে। ব্যাংকের হিসাব নির্বাচিত কমিটির ক্ষেত্রে : কোষাধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদক এবং এডহক কমিটির ক্ষেত্রে : এডহক কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হইবে।

 

ধারা ৯.

কার্যনির্বাহী কমিটির তিন বৎসরের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার ৩ মাস পূর্বে সভাপতি একটি নির্বাচন উপকমিটি গঠন করিবেন। জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে উপকমিটির সভাপতি এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সদস্য-সচিব হইবেন। উক্ত কমিটিতে অপর ৩জন সদস্য সভাপতি কর্তৃক মনোনিত হইবে। নির্বাচন উপকমিটি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করিবে। নির্বাচন উপকমিটি ছয় সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কাজ সমাপ্ত করিবেন। উল্লেখ্য যে, নির্বাচন উপকমিটির কোন সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না।

 

ধারা ১০. সভা

ক) বার্ষিক সভা: প্রতি বৎসর জুন মাস শেষ হইবার পূর্বে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হইবে এবং সভায় বার্ষিক কার্যবিবরণী ও বাজেট পেশ করা হইবে। 
খ) কার্যনির্বাহী কমিটির সভা : কার্যনির্বাহী কমিটির সভা প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার অনুষ্ঠিত হইবে তবে বিশেষ প্রয়োজনে কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরী সভা আহ্বান করা যাইবে। 
গ) বিশেষ সাধারণ সভা: মোট সদস্যদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশের দাবিতে বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হইতে পারিবে। এই ধরনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সভাপতির অনুমোদনক্রমে সাধারণ সম্পাদক ৭ দিনের মধ্যে সভা আহ্বান করিবেন।

 

ধারা ১১. অডিট

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে প্রাপ্ত অনুদান এবং স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব স্থানীয় নিরীক্ষা অফিস কর্তৃক নিরীক্ষা সম্পাদন করিয়া প্রতি বৎসর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রেরণ করিতে হইবে।

 

ধারা ১২. পার্বত্য জেলাসমূহ

বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য উপজেলাসমূহে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি আঞ্চলিক আইনের সঙ্গে সংগতি রাখিয়া এই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হইবে।

 

ধারা ১৩. সংশোধনী

প্রয়োজনবোধে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পরিষদ এই গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংযোজন ও সংশোধন করিতে পারিবে।

 



* বিঃ দ্রঃ- এই আদেশ ঢাকা মহানগরীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নহে।